দুই হাতে লেখা

ওয়াজ ডারউইন রং? | ডিসেম্বর 14, 2009

সবার শুরুতেই মারাত্মক একটা ধন্যবাদ জানাতে হয় মহামতি, মহাজ্ঞানী জাকির নায়েককে। বিবর্তন সম্পর্কিত আমার অতিক্ষুদ্র জ্ঞানও অর্জন হতো না, যদি না তিনি চমৎকার একটি বক্তৃতা দিতেন।

যাই হোক, ফাইজলামি বাদ দিয়ে আসল কথাই আসি। গত বই মেলা থেকে বন্যা আপার “বিবর্তনের পথ ধরে” বইটা কিনে মুহাম্মদ। বাংলাভাষায় আরও কয়েকটি বিবর্তন বিষয়ক বই আছে, সেগুলো পড়ি নাই, খালি একটু নেড়েচেড়ে দেখা হয়েছে। তারপরও বলতে দ্বিধা নেই, বন্যা আপার বইটা সত্যিকার অর্থেই দারুন। প্রচুর বিষয় ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হয়েছে বইটিতে। এই বইটি পড়েই বিবর্তন সম্পর্কে বেশ চমৎকার একটা ধারণা পেয়েছি আমি। এছাড়া মুক্তমনার সম্পাদক অভিজিৎ রায়ের বিবর্তন সম্পর্কিত অসংখ্য ব্লগ তো আছেই।

এভাবেই চলছিল। এর মাঝে বিডিয়ার ভাই চীন দেশ থেকে জ্ঞান বিতরণ শেষে ফিরে এসে কয়েকটা ডকুমেন্টারি ধরিয়ে দেন। যার মধ্যে একটা ছিল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর “ওয়াজ ডারউইন রং”। পরীক্ষার মাঝখানে ডকুটা দেখে মারাত্মক উত্তেজিত হয়ে যাই। বিবর্তনের সাধারণ জিনিসগুলো এতো চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এরপরও যদি কেউ না বুঝে তাহলে সত্যিকার অর্থেই তাকে “জাকির নায়েক” বলা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। ডকুটা দেখেই একটা সিদ্ধান্ত নেই, পরীক্ষা পরবর্তী ছুটিতে বিবর্তনের একদম সাধারণ জ্ঞান টাইপ একটা লেখা লিখবো। বৈজ্ঞানিক কচকচানি না, সহজ সরল ভাষায়।

প্রচুর প্ল্যান করলেও তা সফল হয় না। এইটা হয়েছিল। সিসিবিতে চার পর্বে ছেড়েছিলাম লেখাটা। প্রতিরাতে একটা পর্ব লিখতাম, আপলোড করেই ঘুমাতে যেতাম, পরেরদিন আরেকটা পর্ব। মানুষজনের ভালো ফিডব্যাক পাওয়া গিয়েছিল। তবে অনেকের অভিমত ছিল ধর্মের দিকে অযথা আঙ্গুল তোলা হয়েছে।

এইকারণে লেখাটা পরবর্তীতে আবার ঠিকঠাক করি। ধর্মের সাথে বিবর্তনের বিবাদ বহু পুরাতন, তাই আঙ্গুল না তুলে লেখা সম্ভব নয়। তবে যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যেহেতু লেখাটার উদ্দেশ্য সাধারণকে বিবর্তন বোঝানো, মগজ ধোলাই না। ধর্ম সংক্রান্ত যাও আলোচনা এসেছে সেগুলো বাইবেলকে ঘিরেই।

ব্লগে প্রকাশিত সংস্করণটি পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন। এছাড়া আরও বিষয় সংযুক্ত করছি। খুব ইচ্ছে আছে বই মেলায় চটি বইয়ের আকারে লেখাটি প্রকাশ করতে। আজকার তো বড় বই দেখলেই আমরা দৌড়ে পালাই, আর বিবর্তন নিয়ে হলে তো কথাই নেই।

দুইজনকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা। একজন সন্ন্যাসী দা। উনি ফরম্যাটিং, বানান ভুল সহ অসংখ্য বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন, বিভিন্ন তথ্য খুঁজে দিয়েছেন। আরেকজন অভিজিৎ রায়। বেশ কিছু প্যারা তাঁর লেখা থেকে অনুমতিক্রমে উদ্ধৃত করেছি সরাসরি।

মন্তব্য দেখার জন্য ব্লগ লিংকঃ

ওয়াজ ডারউইন রং- প্রথম পর্ব (ক্যাডেট কলেজ ব্লগ)

ওয়াজ ডারউইন রং- দ্বিতীয় পর্ব (ক্যাডেট কলেজ ব্লগ)

ওয়াজ ডারউইন রং-তৃতীয় পর্ব

ওয়াজ ডারউইন রং-শেষ পর্ব

সচলায়তনের ঘোষণা পোস্ট –

মুক্তমনায় অখন্ড পোস্ট –


2 টি মন্তব্য »

  1. আরে লিঙ্কন ভাই, আপনার ছবি দেখে ব্লগে আসলাম। তারপর দেখি ঠিকই আছে। আপনারই ব্লগ। কেমন আছেন?

    মন্তব্য দিন লিখেছেন Rony — ডিসেম্বর 16, 2009 @ 11:51 অপরাহ্ন

    • ভালু আছি বৎস! ইদানিং লিখতে ভালু লাগেনা, তাই আগের লেখা কালেকশনে নামছ 😛 ভালো থাকিস।

      মন্তব্য দিন লিখেছেন raihan abir — ডিসেম্বর 17, 2009 @ 12:26 পুর্বাহ্ন


মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

    গুগলান …

    মোর খোমা

    নিজের কথা নিজেই বলি

    গভীর সমুদ্রের মধ্যভাগের এক দ্বীপে আটকে থাকা একজন মানুষকে উদ্ধারের আশায় তীর থেকে ভাঙা তরী ভাসিয়ে তার মাঝে বসে থেকে চুরুট টানা মানুষ আমি। স্বপ্ন দেখি অনেক, অলসতায় যার প্রায় সবটুকু স্বপ্নই থেকে যায়।

    ইসলামী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (আইইউটি) থেকে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলে স্নাতক। দেশের গরীব জনগনকে সল্পমূল্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেবার ইচ্ছায় গবেষণারত সিদ্দিক- ই- রব্বানী স্যারের সাথে কাজ করি এখন। গালভরা একটা নামও আছে অবশ্য এই কাজের। বায়োমেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলোজি বিভাগের পিএইচডি গবেষক (!!)।

    ব্লগজগতে আছি প্রায় তিনবছর। "বস" লেখক না হয়েও "বস" লেখকদের একটা স্বভাব এখন আমারও হয়েছে। লিখতে আর ভালো লাগেনা।

    বিষয়বস্তু

    গুঁতাশুমারি

    • 2,110 টি

    RSS ফিড

    RSS Feed

%d bloggers like this: